• সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১

অফিসের বসকে যে কথা বলতে নেই

মাসুদ আলম:
অফিসে বসে’র সাথে আপনার সম্পর্ক ভালো থাকতে পারে। হয়ে যেতে পারে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কিন্তু সম্পর্ক যতই সুখকর হোক না কেন কখনোই পেশাদারীত্বের বাহিরে কথা বলবেন না। অপেশাদারী কথাবার্তা বা আচরণ আপনার ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি হতে উঠতে পারে। 
জেনে নিন এমন কিছু কথা যা বস’কে বলা আদৌ ঠিক নয়:
আমার হাতে সময় নেই
আপনি খুব কাজের চাপে ব্যস্ত বা আপনি এখনি বের হবেন এমন সময় বস যদি আপনাকে কোন কাজের দায়ীত্ব দিতে চান তাহলে কখনো বলবেন না যে, আমার হাতে সময় নেই। খুব ব্যস্ত সময়ে বস কোন কাজের কথা বললে তাঁর কাছ থেকে সিদ্ধান্ত জেনে নিন কোন কাজটি আগে করবেন। এরকম পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে ধৈর্য্য ধরে কাজ করলে বসের কাছে আপনার সম্পর্কে এই ইতিবাচক ইমেজ তৈরী হবে।
অপরকে দোষারোপ করবেন না
নিজের কোন ভুল বা অপারগতার জন্য আপনার অপর সহকর্মীকে দোষারোপ করবেন না। পরস্পরের দোষারোপ করা স্বভাব বস’রা ভালো চোখে নেন না। যদি আপনি দোষী না হন তা বসকে জানান, ব্যাখ্যা করুন কিন্তু একে অপরকে দোষ দিবেন না। এমনকি নিজের দোষের কারণে কোন কাজ করতে না পারলে অপরকে দোষ না দিয়ে নিজের দোষ স্বীকার করুন। এতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নতুন চাকুরি খুঁজছেন
নিজের ক্যারিয়ারের জন্য আপনাকে হয়তো প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে হতে পারে। বসের সাথে আপনার সম্পর্ক ভালো। আপনি হয়তো ভাবছেন বস আপনার ভালো চায়। এরকম ভালো সম্পর্ক থাকলেও কখনো বলবেন না যে, আপনি চাকুরি খুঁজছেন। কারণ এতে করে আপনাকে বস আর প্রতিষ্ঠানের নিজের মনে করবেন না। আপনার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। তাই চাকুরি খোঁজার সময় বসকে না জানিয়ে বরং চাকুরি ছাড়ার সময় প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকে জানিয়ে রাখুন। এটাই হবে পেশাদারী আচরণ।
কাজটি কীভাবে করতে হয় আমি জানি না
বস যদি আপনাকে কোন কাজ দেয় তাহলে প্রথমে বলবেন না যে, কাজটি কীভাবে করতে হয় আমি জানি না। বরং আপনার সহকর্মীর সহযোগিতা নিন এবং যিনি কাজটি করতে পারেন তার সাহায্য নিন। তারপর ইন্টারনেটে টিউটোরিয়াল তো আছেই। এতে আপনার প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরী হবে যে, আপনি শিখতে আগ্রহী। কিন্তু প্রথমেই কীভাবে করব বললেই আপনার যোগ্যতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরী হবে।
অর্থের টানাপোড়েনে আছেন বেতন বাড়িয়ে দিন
আপনার সংসারে হয়তো অর্থকষ্ট বা টানাপোড়েন থাকতে পারে। কিন্তু এ কারণ দেখিয়ে বসকে কখনো বেতন বাড়ানোর কথা বলবেন না। বরং আপনার কাজের যোগ্যতা বা দক্ষতা দেখিয়ে বসকে প্রমাণ করুণ যে আপনি আরো বেশী বেতন পাওয়ার যোগ্য। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যায় নির্বাহ করতে না পারার অজুহাতে বেতন বাড়ানোর কথা বলবেন না। তার চেয়ে আপনার দক্ষতা এমনভাবে উপস্থাপন করুন যে প্রতিষ্ঠানের আপনাকে প্রয়োজন।
সাবেক বস কাজটি এভাবে নয় এভাবে করতেন
কর্মক্ষেত্রে আপনার বস পরিবর্তন হতে পারে। প্রত্যেকের কাজের ধরণও আলাদা হয়ে থাকে। তাই নতুন বসকে বলবেন না যে, আগের বস কাজটি এভাবে করতেন। বরং তার চেয়ে বলতে পারেন কাজটি এভাবে করা যায় কী না। যখন আপনি পুরোনো বসের কথা বলবেন, তখন নতুন বস মনে করবে যে আপনি তার প্রতি অনুগত নন। অথবা তার পরিবর্তন মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না। এতে করে আপনার প্রতি বসের এ ধারণা হতে পারে যে, আপনি পরিবর্তন সহজে মেনে নিতে চান না। ফলে বস নতুন কোন প্রজেক্টে আপনাকে না রাখার সম্ভাবনাই বেশী কারণ বস আপনার প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না।
আজ আমি একটু আগে বের হতে চাই
আজ আমার ডাক্তার দেখাতে হবে বা জরুরী কোন কাজ পড়ে গেছে। কখনোই অফিসে ঢুকে বসকে বলবেন না যে, আজ আমি একটু আগে বের হতে চাই। তার চেয়ে বরং মনোযোগ দিয়ে দিনের কাজ করুন। আগে বললে মনে হবে যে, অফিসে এসে তো কিছুই করেন নি। অথবা বস মনে করবে আজ আপনার কাজের প্রতি কোন মনোযোগ নেই। সবচেয়ে ভালো হয় তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে আপনার চলে যাওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করা।
কাজ করতে বিরক্ত লাগছে, বিষন্ন লাগছে
অফিস কাজের জন্য আপনাকে বেতন দিয়ে থাকে তাই বস সবসময় চায় উৎসাহি কর্মচারি। তাই বসকে কখনই বলবেন না যে, আজ আপনার মন খারাপ বা বিষন্ন লাগছে, বিরক্ত লাগছে বা কাজ করতে ভালো লাগছে না। এভাবে বললে আপনার দায়িত্বহীনতার প্রকাশ ঘটবে।
রাতের পার্টির খোসগল্প 
বসের সাথে ভালো সম্পর্ক কখনো কখনো বন্ধুত্বে রূপ নেয়। তাই বলে রাতের পার্টিতে কী করেছেন তা ভুলেও বলতে যাবেন না। আর অফিসে  এসে বলবেন না যে, আপনার এখনো ঘোর কাটেনি। আবার এ কারণে যদি অফিসে আসতে দেরি হয় তাহলে বলতে যাবেন না যে, রাতে ভালো ঘুম হয়নি তাই অফিসে কাজে মনোযোগ নেই। সবসময় মনে রাখবেন দিনশেষে এই ব্যক্তিটি আপনার বেতন ভাতা প্রমোশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

 
 

Share :