• বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১

সিরামিক শিল্প: দেশের নতুন সম্ভবনাময় খাত 

প্রিয় প্রতিবেদন: প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২০
সিরামিক শিল্প দেশের রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের সম্ভবনাময় খাত হতে যাচ্ছে । সিরামিকের আন্তর্জাতিক বাজার প্রায় দুই হাজার কোটি ডলারের। এর মধ্যে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের পণ্য যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালিসহ ৫০টির বেশি দেশে। এখন মধ্যপ্রাচ্যের বাজারও নতুন দুয়ার খুলেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দেশীয় সিরামিকের বিশাল চাহিদা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব খুব সামান্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাবে রপ্তানি চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে আমদানি বিকল্প সিরামিক পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) সূত্র জানায়, দেশ উন্নত হচ্ছে ফলে বর্তমানে প্রতিবছর ১০ হাজার কোটির সিরামিক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে দেশেই ৮৫ শতাংশ সিরামিক তৈরি হচ্ছে। সরকারের আরও কিছু পৃষ্টপোষকতা পেলে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে বেশি সিরামিক পণ্য রপ্তানি সম্ভব।
জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সিরামিক খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৮৭ কোটি টাকা। বর্তমানে এটা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকায় দেশী সিরামিক রপ্তানি হচ্ছে। এসব দেশে দেশীয় টেবিল ওয়্যার, ফ্লোর টাইলস, স্যানিটারি, কমোড ও বেসিনের বিরাট চাহিদা। দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্প গ্রুপ আকিজ, আবুল খায়ের, ডিবিএল, শেলটেকসহ আরও অনেক কোম্পানি সাম্প্রতিক সময়ে সিরামিকে বিনিয়োগে এসেছে। নতুন করে জেবি, তুষার, বিএইচএল, মেঘনা গ্রুপসহ ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি বিনিয়োগ করছে। শুধু দেশি নয়, বিদেশি বিনিয়োগও এসেছে সিবিসি, নিউ জং ইয়ান, ফু-ওয়াং, আরএকে ও চায়না-বাংলাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের।
এ বিষয়ে রোমা টাইলস’র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পা-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুব আলম বলেন, দেশে অর্থনীতি-কর্মসংস্থানে বিরাট ভূমিকা রাখছে বগুড়ার বনানীতে প্রতিষ্ঠিত সর্বাধুনিক স্বয়ংক্রিয় মেশিনে প্রস্তুত হয় রোমা টাইলস। সারাদেশে ক্রেতা চাহিদা পূরণ করছে এ ব্র্যান্ড। সিরামিক শিল্প দেশে অনেক সম্প্রসারণ হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আমরা এখনও পিছিয়ে রয়েছি। অন্য দেশের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটি পৌঁছে দিতে আমাদের খরচ অনেক বেশি হয়। কাঁচামাল আমদানিতে ৩২ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হয়। বিদেশে সরাসরি ও দ্রুত পণ্য পৌঁছানোর যথাযথ কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে আমাদের পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছতে অনেক বেশি মূল্য পড়ে যায়।
বর্তমানে উৎপাদনে এসেছে বাংলাদেশ হার্ডল্যান্ড সিরামিক (বিএইচএল)। হবিগঞ্জে দৈনিক কয়েক লাখ বর্গফুট টাইলস উৎপাদনে সক্ষমতা রয়েছে। সিরামিক খাতে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানিতে অনেক সম্ভাবনা বাড়ছে। প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় টিকে থাকতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়ার দাবি রয়েছে কারখানার পক্ষে। এখানে ফ্লোর টাইলস, ওয়াল টাইলস তৈরি হচ্ছে।
বিএইচএল সিরামিক কোম্পানি লিমিডেটর ম্যানেজার (প্রক্রিউরমেন্ট) আদনান হায়দার বসুনিয়া বলেন, বাংলাদেশে আমরা টাইলস তৈরি করি। ভালো মানের টাইলস তৈরি করি। কিন্তু বিদ্যুৎ গ্যাস সার্বক্ষণিক সাপ্লাই পাচ্ছি না। আমরা যদি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সাপ্লাই পাই, তবে এই শিল্প আরও এগিয়ে যাবে। দেশে কর্মসংস্থানে সিরামিক শিল্প বিরাট ভূমিকা রাখবে সিরামিক খাতে কাজের বিরাট সুযোগ আছে। এ খাতে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৫ লাখেরও বেশি দক্ষ লোকবল কাজ করছে।
বাংলাদেশ সিরামিক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিসিএমইএ) সূত্র জানায়, দেশে সিরামিক কারখানার সংখ্যা ৬৬টি। এসব কারখানায় যেমন সস্তা দামের পণ্য তৈরি হয়, তেমনি মধ্যম দামের মানসম্মত পণ্যও তৈরি হয়। কারখানাগুলোর মধ্যে ২৮টি টাইলসের, ২০টি তৈজসপত্রের ও ১৮টি স্যানিটারিওয়্যারের। নতুন আরও ৪ থেকে ৫টি কারখানা আসছে, যারা দু-এক বছরের মধ্যেই উৎপাদনে যাবে। বিসিএমইএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, দেশ সিরামিক শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হচ্ছে। এক সময় সিরামিক মানেই আমদানি নির্ভর। কিন্তু এখন ৮৫ শতাংশই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। আমরা বছরে হাজার কোটি টাকার সিরামিক রপ্তানি করছি। আগে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যেত।
তিনি আরো বলেন, সিরামিক শিল্পের কিছু সমস্যা আছে যেমন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ জনবলের অভাব। সরকার প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করলে এই শিল্পের আরো প্রসার হতো।

Share :