• বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ডিজিটাল লাইসেন্স ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ

প্রিয় প্রতিবেদন: ১১ মার্চ ২০২১
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ডিজিটাল লাইসেন্স ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ।
এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন কপিরাইট বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন। তিনি লাইসেন্সিং অ্যান্ড কালেকটিং সোসাইটি ফর সিনেমাটোগ্রাফ ফিল্মের (এলসিএসসিএফ) (একটি অলাভজনক কপিরাটইট সমিতি) প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে সেক্রেটারী জেনারেল। কপিরাইট সমিতি (এলসিএসসিএফ) ভারতীয় কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিয়ে ভাষণটির অপব্যবহার বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। 
তিনি সাংবাদিকদের জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণটি বেশি জনপ্রিয় হলেও বঙ্গবন্ধুর অন্য ভাষণগুলোর প্রতিও মানুষের আগ্রহ রয়েছে।
ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও নানা গবেষণা গ্রন্থে ভাষণগুলো আদরণীয় হয়ে উঠছে।  কোনো  কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কালজয়ী ভাষণগুলো আপলোড করে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থও কামাচ্ছে। জাতির পিতা কে ব্যবহার করে অর্থ উপর্যান রাষ্ট্রের বিষয় কিন্তু জাতির পিতাকে অসম্মান করে বিশ্বের দরবারে ভুল ব্যাখ্যায় ডিজিটাল লাইসেন্স করে নেয়া কখনোই মেনে নেয়া যায় না।
অর্থ কামাতে  ভারতীয়  কোম্পানি ইনরেকো এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড ৭ মার্চের ভাষণটি নিজেদের নামে ডিজিটাল লাইসেন্স করে নিয়েছিল, যা বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রণালয়ের জানা ছিল না। তবে  সেই লাইসেন্স আজ বাতিল হওয়ায় কপিরাইটের ৭৮ ধারা অনুযায়ী, ৭ মার্চের ভাষণটির নৈতিক  মেধাস্বত্বের মালিকানা ফিরেছে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা ও  শেখ  রেহানা।
ব্যারিস্টার আফরিন আরও বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কপিরাইট সমিতি হিসেবে এলসিএসসিএফ ২০১৮ সালে নিবন্ধিত হয়। এরপর ৭ মার্চের ভাষণের কথা আমাদের ভাবনায় আসে। এরপর থেকে এই ঐতিহ্যাসিক ভাষণটির মনিটরিং কাজ শুরু করি। তখন  দেখি বিভিন্ন পন্থায় বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণকে অসম্মানজনকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের ইউটিউব চ্যানেল, ইয়াংবাংলা ইউটিউব চ্যানেল, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি আপলোডেড রয়েছে ভিন্ন ডিজিটাল লাইসেন্স ভিন্ন নামে। কিন্তু এটির মালিকানার  খোঁজ করতে গিয়ে দেখি ইনরেকো এন্টারটেইনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামের ভারতীয় একটি  কোম্পানি ২০১২ সাল  থেকে ভাষণটি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের মতো করে ব্যবহার করছে। তারা এটিকে অন্য নাম দিয়ে ডিজিটাল লাইসেন্স নিয়েছে। অথচ, সেটি প্লে করলে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুরু হয়। 'রক্তের প্রতিশোধ রক্ত নিব' এবং ' শোনো একটি মুজিবরের  থেকে' নামে তারা অবৈধ এই ডিজিটাল লাইসেন্স গত ৯(নয়) বছর ধরে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করে আসছে।
ইনরেকো চাইলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ইয়াং বাংলা অফিসিয়াল আইসিটি ডিভিশন ইউটিউব চ্যানেলগুলো থেকে ঐতিহ্যাসিক ভাষণটি ক্লেইম করে বন্ধ করে দিতে পারতো। এই অপূরনীয় ক্ষতির সম্মূখীন হতে পারতো বাংলাদেশ।  
অথচ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটির স্রষ্টা আমাদের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে এবং এই ঐতিহ্যাসিক ভাষণের মূল মেধাস্বত্বের স্বত্বাধিকারী।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন বলেন, ইউনেসকোর ফর্ম অনুযায়ী, বাংলাদেশের আইসিটি মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও বাংলাদেশ  বেতার- এই চারটি জায়গায় ঐতিহাসিক ভাষণটির সম্পূর্ণ মালিকানা রয়েছে। কিন্তু কপিরাইটের মালিকানার বিষয়ে কিছু বলা না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানি ভাষণটির অপব্যবহার করছিলো, যা কপিরাইট আইন ৭৮-এর জাতির পিতার নৈতিক অধিকার লঙ্ঘন।
বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে পদক্ষেপ নিতে ২০২০ সালের ৫ জুলাই চিঠি পাঠাই। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর  প্রেস সচিবের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকও হয়।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে গত ২৩ আগষ্ট ইনরেকো এনটারটেইনমেন্ট লিমিটেডকে উকিল  নোটিশ  পাঠানো হয় এবং এর পর মনিটরিং করতে গিয়ে ডিজিটাল লাইসেন্সটা আর চোখে পড়ে না।  তারা এখন ডিজিটাল লাইসেন্সটি অবমুক্ত করেছে। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ভাষণটির অপব্যবহার রক্ষা করতে  পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রঙ্গত, ব্যারিস্টার ওলোরা আফরিন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোলাইডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা  মো. ওয়াজেদ আলী ও হাসমত আরার সন্তান। তিনি লেখাপড়া করেছেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত এই তরুণ ব্যারিষ্টার বর্তমানে কপিরাইট আইন নিয়ে কাজ করছেন। তিনি অ্যাক্রেডিটেড মিডিয়েটর এবং  মেধাস্বত্ব পরামর্শক। এছাড়াও তিনি উইমেন ইন আইপি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি।

Share :