• সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

ইভ্যালিসহ চার কোম্পানির সদস্যপদ বাতিল করল ই-ক্যাব

প্রিয় প্রতিবেদন: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগে ইভ্যালিসহ চারটি ই-কমার্স কোম্পানির সদস্যপদ স্থগিত করেছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ই-ক্যাব।বাকি তিন ই-কমার্স কোম্পানি হল ইনভ্যারিয়েন্ট টেকনলজিসের ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপ ও গ্লিটার্স আরএসটি ওয়ার্ল্ড।
বুধবার ই-ক্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় ওই চার কোম্পানির সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে গত ১৮ অগাস্ট ই-অরেঞ্জসহ চারটি কোম্পানির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছিল। এ নিয়ে আটটি ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ স্থগিত করলো ই-ক্যাব।
এসব কোম্পানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত ২৮ অগাস্ট ই-ক্যাব ১১ সদস্যের একটি কমপ্লায়েন্স অ্যাডভাইজারি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর সদস্যপদ স্থগিতের সুপারিশ করে।
এসব কোম্পানির উদ্যোক্তদের অনেকেই ইতোমধ্যে হয় দেশ ছেড়েছেন, না হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার বা নজরদারিতে আছেন।
এই কোম্পানি গুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় প্রতারণার মামলা করছেন গ্রাহকরা। তারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভও করছেন।
কিউকমসহ আরও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা নিয়ে পণ্য দিতে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠলেও তাদের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি ই-ক্যাব।
এই চারটি কোম্পানির মধ্যে ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বার বার সময় নিয়েও ক্রেতাদের সমস্যার সমাধান না করা, ই-ক্যাবের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য না দেওয়া, ডিজিটাল কমার্স নির্দেশিকা-২০২১ পরিপূর্ণভাবে পালন না করা ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সন্তোষজনক পদক্ষেপ গ্রহণ না করা।
এদিকে ধামাকা শপিং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ, কয়েক মাস হয়ে গেলেও ক্রেতাদের পণ্য বা মূল্য ফেরত দেয়নি তারা। ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের অভিযোগগুলো সমাধানেও গড়িমসি করেছে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাওনা পরিশোধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি তারা।
এদিকে  ই-ক্যাবের চিঠির জবাব দেয়নি সিরাজগঞ্জ শপ।
আর ই-কমার্সের নামে বেআইনি এমএলএম ব্যবসার সাথে জড়িত বলে অভিযোগ গ্লিটার্স আরএসটি ওয়ার্ল্ড এর বিরুদ্ধে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসব কোম্পানির সদস্য পদ স্থগিত করে সমস্যা সমাধানে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে সদস্যপদ বাতিল করা হবে।
এদিকে বুধবারই প্রতারণার অভিযোগে ধামাকার সিওওসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যািবের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধামাকার কোনো ট্রেড লাইসেন্স বা কিছুই নেই। ইভ্যারিয়েন্ট টেলিকমের অ্যাকাউন্টে তারা টাকা লেনদেন করেছে। তদন্তের পর সিআইডি ১১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে। এ কোম্পানির মূল উদ্যোক্ত অনেক আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব।

Share :