• বুধবার, ০৬ Jul ২০২২

থটস অফ শামস:  এক প্রতিভাবান কন্টেন্ট নির্মাতা

প্রিয় প্রতিবেদন: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে অভিনব ও ফ্রেশ কন্টেন্ট নির্মাণ বাংলাদেশে নতুন নয়। কিন্তু এর উপর ভিত্তি করে ক্যারিয়ার গঠনের ধারণাটি একই সাথে চমকপ্রদ ও সম্ভাব্যতার প্রশ্নের যোগান দিচ্ছে। তাই বিশ্বমানের এই ক্যারিয়ারের সাথে বাংলাদেশ কেবল মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ইউটিউব ও ফেসবুকে কন্টেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছে। থটস অফ শামস তেমনি একটি ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ, যেটি মজার সব ভিডিওর মাধ্যমে ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
আজকের ফিচারটি এই থটস অফ শামসকে কেন্দ্র করেই।
বাংলাদেশি নারী ইউটিউবার শামস-এর ব্যক্তি জীবন
থটস অফ শামস-এর নেপথ্যের মানুষটি সবার নিকট শামস নামেই পরিচিত; পুরো নাম শামস আফরোজ চৌধুরী। কাছের প্রিয়জনরা তাকে প্রভা নামে ডাকে।
কুমিল্লার মেয়ে শামস ২০০৯-এ এইচএসসি’তে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বিবিএ’তে ভর্তি হন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখানে গ্রাজুয়েশন শেষ করে ২০১৩ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকে যোগ দেন ইন্টার্নীর জন্য।
২০১৮তে এই মেধাবী ছাত্রী এমবিএ সম্পন্ন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবনের শুরুতে শামস একটি বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
কন্টেন্ট নির্মাণ এবং দাম্পত্য জীবন একসাথে শুরু হলেও দুটোর কোনটাই পরস্পরের জন্য কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি শামসের ক্ষেত্রে।
শামসের কন্টেন্ট নির্মাতা হয়ে ওঠার গল্প
এমবিএ চলাকালে বিসিএস ও ব্যাংকে চাকরীর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে থাকেন শামস। একের পর এক জবের জন্য আবেদনের পরেও কোথাও থেকে আশানুরূপ কোন সাড়া আসছিলো না। বরং প্রতিটি ইন্টারভিউ থেকে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছিলো।
বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে কর্মরত অবস্থায় নিজের কাজের সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছিলেন না। এভাবে বাংলাদেশের চাকরীর চিরাচরিত দৌরাত্ম্যে জড়িয়ে গিয়ে ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ হতাশায় পড়ে যান শামস।
২০১৭ এর ২৩ আগষ্ট থটস অফ শামস নামে ফেসবুক পেজ তৈরি করে সেখানে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। একদিন হঠাৎ চিন্তা আসে যে, লেখা কন্টেন্টগুলো নিয়ে ভিডিও বানালে কেমন হয়! এই ভাবনা থেকেই নিজের লেখা কন্টেন্টগুলোতে দারুণ হাস্যরস মিশিয়ে ভিডিও বানাতে শুরু করে দেন। ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি থটস অফ শামস টাইটেল দিয়ে খুলে ফেলেন একটি ইউটিউব চ্যানেল।
শামস বর্তমানে ৪৩০ হাজার গ্রাহকের ইউটিউব চ্যানেল এবং ২.৩ মিলিয়ন ফলোয়ার-এর ফেসবুক পেজ-এর মালিক।
থটস অফ শামস ও মজার ভিডিও নির্মাণশৈলী
শামস একাই থটস অফ শামস-এর রম্য ভিডিওগুলোর সবগুলো চরিত্রে অভিনয় করেন। বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব প্রভৃতি সমাজের চিরচেনা চরিত্রগুলোকে হাস্যরস দিয়ে সাজিয়ে তোলেন শামস। প্রতিটি ভিডিওতে থাকে ইতিবাচক বার্তা, যা দর্শকদের বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামলানোর অনুপ্রেরণা যোগায়।
কন্টেন্টগুলোর মধ্যে “ব্লক’স স্টোরী” প্রথম সবচেয়ে বেশি দর্শকের নজর কাড়ে। ২০১৯ এর শেষের দিকে পেয়াজের মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত “আমরা কোন সাধারণ বংশের না” শিরোনামের ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমগুলোর পাশাপাশি সম্প্রচার মাধ্যম গুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এই ভিডিওটির পূর্বে থটস অফ শামসের ফলোয়ার ছিলো ২০০০ এর মত। কিন্তু ভাইরালের পর ফলোয়ার সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় প্রায় ৫০ হাজার।
২০১৯ এর অক্টোবরে এক লাখ গ্রাহক অর্জনের জন্য ইউটিউব থেকে শামস সিলভার বাটন পেয়ে যান। এরই সূত্রে ২০২০ সালে বেশ কিছু দেশীয় ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করায় রীতিমত ইনফ্লুয়েন্সার বনে যান তিনি।
থটস অফ শামস-এর সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ইউটিউব ভিডিও “লুডু উইথ ফ্যামিলি”, যেটি এখন পর্যন্ত ৩.৫ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। তাঁর দর্শকদের কাছে তিনি এখন তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র আম্মাজান, শামসু, কুলসুম, ফুপ্পি, টুনি নামেই বহুল পরিচিত।
শেষাংশ
ইউটিউব চ্যানেল খোলার সাথে সাথেই থটস অফ শামস-এর সফলতা আসেনি। এক বছরে মাত্র ১০০ গ্রাহকের কারণে চ্যানেলটি প্রায় বন্ধ করে দেয়ার উপক্রম হয়। কিন্তু মায়ের পরামর্শে শামস আফরোজ চালিয়ে যেতে থাকেন তাঁর ভালবাসার কাজটি। বিগত তিন বছরের কন্টেন্ট নির্মাণ ক্যারিয়ারে শামস তার ইউটিউব চ্যানেলে সব মিলিয়ে মোট ১০০ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছেন। সব সময় হাসিখুশি এই নারী ইউটিউবার বিঃশ্বাস করেন যে, সব সময় ভালবাসার কাজটি সঠিক ভাবে করার মাঝেই জীবনের আসল সফলতা নিহিত।
সুত্র: ইএনবি

Share :